Interviews & Reviews

লেখার আগে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক হয় নিজের মনের সাথে নিজের
বহুমাত্রিক লেখক। বরিশালে বাড়ি বলেই তাঁর কথার বিস্তার ঘটে স্বতস্ফুর্তভাবে। চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে জড়িত পেশাগত জীবনে। গল্প, প্রবন্ধ, কবিতা, ছোটদের লেখা করেন। বেশ কিছু বই প্রকাশিত হয়েছে তাঁর। দুই পর্বে রেজা ঘটক গল্পপাঠের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছেন তাঁর নিজের গল্পের ভুবনটি।

গল্প লিখতে শুরু করলেন কেন? খুব ছোটবেলায় আমি মায়ের কাছে খুব গল্প শুনতাম। গল্প শুনতে আমার খুব ভালো লাগতো। অনেক সময় একই গল্প আমি মায়ের কাছে বারবার শুনতে চাইতাম। তখন আমার মধ্যে একটা ছোট্ট জিজ্ঞাসা কাজ করতো। মা আগের বলা সেই একই গল্পটি নতুন করে আবার বলে কিনা? কিংম্বা নতুন করে বলার সময় কিভাবে বলেন? নতুন করে বলার সময় কি কি নতুন বিষয় সেখানে যোগ হতো সেটা ছিল আমার কোয়ারি। তো আমি খুব সচেতনভাবে লক্ষ্য করতাম যে, প্রতিবারেই মায়ের বলা সেই গল্পে নতুন কিছু যোগ হচ্ছে। more...

গল্পকার রেজা ঘটক : জীবনের স্পন্দন না থাকলে সেসব গল্পকে আমার মৃত মাছের মত লাগে
সাক্ষাৎকার গ্রহণ: অলাত এহ্সান
অলাত এহ্সান : গল্পকার হিসেবে আপনার প্রস্তুতি ও চর্চা অনেকদিনের, ইতোমধ্যে প্রকাশ হয়েছে পাঁচটি গল্পগ্রন্থ। তা, গল্পলেখা শুরু করলেন কবে?

রেজা ঘটক : স্কুল জীবনে ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ ও ১৬ ডিসেম্বর আমাদের এলাকা থেকে কিছু সংস্কৃতিমনা বড় ভাইয়েরা মিলে ছোট ছোট পত্রিকা বের করতেন। মাঝে মাঝে সেসব পত্রিকায় আমার লেখা ছাপা হতো। কিন্তু সেসব লেখা ততোটা সিরিয়াস ছিল না। কলেজ জীবনে কলেজের বার্ষিক স্মরণিকায়ও আমার লেখা ছাপা হতো। তখনো জানতাম না আমি একদিন গল্প লিখব। অনার্সে পড়ার সময় একবার ডাকযোগে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় একটা গল্প পাঠালাম। সম্ভবত ১৯৯৩ সালের ঘটনা। আমার সেই গল্পটি বিচিত্রায় ছাপা হল। আমার খুব ইচ্ছে হল বিচিত্রা অফিসে গিয়ে সম্পাদক শাহাদাৎ চৌধুরী'র সঙ্গে দেখা করি। কিন্তু দেখা করে কী বলব, তা গুছিয়ে উঠতে পারছিলাম না। তো একদিন মনে সাহস যুগিয়ে বিচিত্রার সেই কপিটি হাতে নিয়ে সোজা হাজির হলাম সম্পাদকের টেবিলে। শাহাদাৎ ভাই আমাকে দশ-বারো মিনিট সময় দিলেন। আর বললেন, তোমার হাতে তো গল্প আছে। তুমি নিয়মিত গল্প লেখো না কেন? সেদিন বিচিত্রা অফিস থেকে বের হবার পর দারুণভাবে আমার মনের শক্তি বহুগুণ বেড়ে গেল। তখন থেকেই সিদ্ধান্ত নিলাম গল্প লিখব। more...