Book Reviews

চলনবিলের হু হু হাওয়ায় হাঁটতে থাকা মানুষের গান

বনানী, ঢাকা, ৭ ফেব্র“য়ারি ২০১১

রাষ্ট্রযন্ত্রের আড়ালে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কীভাবে লঘুকণ্ঠে লড়াই সংগ্রাম করে দৈনন্দিন জীবনাচারে অভ্যস্থ এবং সেই অভ্যস্থ জীবনের নিরর্থক নির্ভরতায় মানুষে মানুষে যে অদৃশ্য বন্ধনে জালের মতো জড়িয়ে থাকা নিসর্গ চলনবিল, তার পরিবেশ প্রতিবেশ জনজীবন আর যেখানে শেকড় গাড়ে অশিক্ষা কুশিক্ষার অনুৎপাদনশীল আবেগ, সেই শ্রেণী গোষ্ঠীর আবেগ, জীবনাচার, নির্ভরতা, দৈনন্দিন জীবন সংগ্রাম, অভ্যাস, পরজীবিতা, পরনিন্দা, শ্লোকে শ্লোকে গেঁথে চলেন কথা সাহিত্যিক জাকির তালুকদার তাঁর ‘হাঁটতে থাকা মানুষের গান’ উপন্যাসে। ‘হাঁটতে থাকা মানুষের গান’ জাকির তালুকদারের তৃতীয় উপন্যাস।

বর্ষকালের কোনো এক অদ্ভুত ঘোর লাগা রাতে জিন্দান-শাহ পীরের তাবিজে ভর করে চলনবিলের ধর্মপ্রাণ যুবক আবদুর রহিম স্বপ্নে এক অদ্ভুত মায়া তৈরি করে। আবদুর রহিম বড়োই ভীতুমনের দুর্বল চিত্তের পুরুষ হলেও পুরো উপন্যাসে আমরা তাকে দু’বার খুব সাহসী ভূমিকা পালন করতে দেখি। আর সেই সুযোগ আর রহস্যকে হাতিয়ার করে এই সময়ের শক্তিমান কথা সাহিত্যিক জাকির তালুকদার অমন এক ভীতু চরিত্র আবদুর রহিমের মধ্যেও এক ধরনের আরোপিত সংগ্রামবোধ জাগানোর প্রয়াসে অনায়াসে ১৪৪ পৃষ্ঠা কখন যে ভরাট করে ফেলেন, তার স্বভাবসুলভ ঘটনা অনুঘটনার হাত ধরে পাঠক তা একটুও টের পান না। চলনবিলের চালচিত্র, আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট, ওখানকার সহজ সরল মানুষের পাশাপাশি রাষ্ট্র কর্তৃক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে তৈরি করা শোষক শ্রেণীর দৈনন্দিন অনাচারের বিবরণ, গ্রামীণ সহজ সরল মানুষগুলোর কঠিন জীবন সংগ্রাম, লঘুবুদ্ধি, ধর্মান্ধতা, শ্লেষ, মুর্খামী, ভণ্ডামী, আচার-আচরণ, কৃষ্টি সংস্কৃতিকে ঘিরে এগিয়ে চলে উপন্যাসের ঘটনাপ্রবাহ। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ’র লালসালু’তে মজিদ যেমন একটা যুক্তিসঙ্গত মাজারের সন্ধান পায়। জাকির তালুকদারের ‘হাঁটতে থাকা মানুষের গান’ উপন্যাসে সেই ধরনের একটা প্রচেষ্টা আবদুর রহিমকে কী করানো হয়েছে? যেখানে জিন্দান-শাহ পীরের অলৌকিক তাবিজের পেছনে যুবক আবদুর রহিমকে ছোটানোর ব্যাপারটা কী তাহলে পুরনো বোতলে নতুন মদ ঢেলে খাবার আকাঙ্খার মতো ব্যাপার? পড়তে গিয়ে পাঠক সন্ধান পাবেন এক বোবা যুবতীর। স্বপ্নে তাবিজের পরিবর্তে বোবা যুবতী মেয়েটি হয়তো যৌবন উন্মাদনা দেয়। এই বোবা মেয়েটি হয়তো আবদুর রহিমের স্বপ্নের নায়িকা। ‘হাঁটতে থাকা মানুষের গান’ জাকির তালুকদারের কোন ধরনের উপন্যাস? একটি চরিত্রকে কেন্দ্র করে কিছু পার্শ্ব চরিত্রের আরোপিত সাহায্য নিয়ে কয়েক মাসের ঘটনার কিছু রিপোর্টিং ফলাফলকে পুঁজি করে দিলেই উপন্যাস হয়ে যায় কীনা তা জানার জন্য জাকির তালুকদারকে আমি তাড়িয়ে বেড়াবো। উপন্যাসে যারা জনগোষ্ঠী, তাদের কী কী বিষয় উঠে আসাটা উপন্যাসের স্বার্থপূরণের জন্য জরুরী, চরিত্রের পুনঃপুনঃ কেন্দ্রিকতার জন্য কী কী সাদৃশ্য বৈসাদৃশ্য প্রয়োগ করা প্রাসঙ্গিক, কোন কোন বিষয় আশয় উপস্থাপনের ক্ষমতা থাকলে উপন্যাসের প্যাটার্ন বদল করা সম্ভব, উপন্যাসের সময় কাল কতোটুকু হওয়া চাই, পাত্রপাত্রীরা কী কী করবে, কী কী করবে না, পরিবেশ পারিপার্শ্বিকতা কী

আরও বিস্তারিত